শনিবার

,

১১ই এপ্রিল, ২০২৬

বাড়ি নির্মাণে পরিবেশবান্ধব হিটিং সিস্টেম এখন বাধ্যতামূলক হচ্ছে

মাহফুজুল হাসান
ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কে জলবায়ু সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যে আবাসন খাতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসছে। কার্বন নির্গমন শূন্যে আনার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে, ২০২৫ সাল থেকে নতুনভাবে নির্মিত প্রতিটি ঘরে শূন্য কার্বন নির্গমন হিটিং ও কুলিং যন্ত্রপাতি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।

আরও এক ধাপ এগিয়ে, ২০৩০ সাল থেকে বিদ্যমান সব ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ফসিল ফুয়েল-নির্ভর (তেল, প্রোপেন, প্রাকৃতিক গ্যাস চালিত) HVAC সিস্টেম ধাপে ধাপে বন্ধ করে দিতে হবে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথাগত হিটিং ও কুলিং যন্ত্রপাতি যেমন—গ্যাস হিটার, বয়লার ও তেলচালিত এয়ার কন্ডিশনারগুলো ঘরের অভ্যন্তরীণ বায়ুকে দূষিত করে তোলে। এর ফলে কার্বন নির্গমন বেড়ে যায় এবং ঘরে বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্যের উপরও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গ্যাসগুলো শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী নয়, বরং শিশু ও বয়স্কদের ফুসফুসজনিত রোগ, হাঁপানি ও অ্যালার্জির ঝুঁকিও বাড়ায়।

২০২৫ সালের পর নতুন ভবন নির্মাণে শূন্য কার্বন নির্গমন প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে। এর অর্থ হলো ফসিল ফুয়েল চালিত যন্ত্রপাতি বাদ যাবে। তার পরিবর্তে ব্যবহার করতে হবে এয়ার সোর্স হিট পাম্প, গ্রাউন্ড সোর্স হিট পাম্প ও ইলেকট্রিক HVAC ইউনিট।

২০২৫-এর আগে নির্মিত যেকোনো ভবনের জন্যও এই পরিবর্তন ধাপে ধাপে ২০৩০ সাল থেকে কার্যকর হবে।

এই উদ্যোগ নিউ ইয়র্ককে আমেরিকার শীর্ষ পরিবেশ-সচেতন রাজ্যগুলোর একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। এতে যেমন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব হবে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচ কমানো এবং ঘরোয়া স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।

এই পরিবর্তন যেন নাগরিকদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি না করে, সে জন্য রাজ্য সরকার ট্যাক্স ক্রেডিট ও রিবেট প্রোগ্রাম চালু করেছে, যাতে HVAC সিস্টেম আপগ্রেড করা সহজ হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তন সফল করতে হলে শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, মানুষের সচেতনতা ও অংশগ্রহণও খুব জরুরি। নতুন বাড়ি নির্মাণের সময়, পরিবেশবান্ধব হিটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হলে তা একদিকে যেমন পরিবেশের জন্য উপকারী, তেমনি ব্যবহারকারীর জন্যও সাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যকর হতে পারে।

সচেতন নাগরিক হিসেবে HVAC সিস্টেম আপগ্রেড করা শুধু বাধ্যবাধকতা নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দায়িত্বও বটে। তাই নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনায় এখন থেকেই শূন্য কার্বন নির্গমন প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।