বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে শুল্ক চুক্তি নিয়ে আরেক দফা উচ্চপর্যায়ের আলোচনা বুধবার (৯ জুলাই) ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আলোচনার ঠিক আগ মুহূর্তে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন তিনি। চিঠিতে চাপ সৃষ্টির বার্তা থাকলেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার দরজা এখনো খোলা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যা সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা।
বর্তমানে আমেরিকায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যে গড়ে ১৬ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয়। নতুন অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ কার্যকর হলে মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৫১ শতাংশ, যা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য এক বিরাট ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে। এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রক্ষায় দ্রুত সমাধানের পথে এগোতে চায় ঢাকা।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) চিঠি পাওয়ার পর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন জানান, ‘৯ জুলাই আমেরিকার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রয়েছে। আলোচনায় আমরা ইতিবাচক ফল আশা করছি।’ বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থানরত বাণিজ্য উপদেষ্টা এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, “বাংলাদেশ ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, যা উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, “বৈঠকে এর আগেও কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে, আর ৯ জুলাইয়ের বৈঠক খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে।”
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক নিয়ে এখনো আলোচনার সুযোগ রয়েছে এবং আমরা আলোচনার মাধ্যমে উত্তরণের চেষ্টা করছি।’ তিনি আরও জানান, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আমেরিকাকে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বোয়িং বিমান কেনা, তুলা আমদানি বৃদ্ধি, গম ও সয়াবিনসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য আমদানি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনার ফলাফল শুধু বাংলাদেশের রপ্তানি নয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখন দেখার বিষয়, চাপ ও সম্ভাবনার এই সন্ধিক্ষণে কেমন সমাধানে পৌঁছায় দুই পক্ষ।




