বুধবার

,

১০ই ডিসেম্বর, ২০২৫

শেখ হাসিনার রায় ঘিরে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

1বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়কে কেন্দ্র করে দেশে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিকে ঘিরে একটি মহল নতুন করে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে মওলানা ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটি, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার গণহত্যার বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা হবে। এ নিয়ে দেশে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে—এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার জনগণের সমর্থনে এসেছে এবং রাজনৈতিক কাঠামোকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে তা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে কিনা এখনো বলা যাচ্ছে না। তিনি আবারও নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনই গণতন্ত্রে ফেরার একমাত্র পথ।’

তিনি জানান, বিভিন্ন বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী নির্বাচন ব্যাহত ও বিলম্বিত করার পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি নির্বাচিত সরকার। রাজনৈতিক দলগুলোকে এখনই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানাতে হবে। নির্বাচিত সরকার না থাকলে অর্থনীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

তিনি সব রাজনৈতিক দলের প্রতি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং মওলানা ভাসানীর আদর্শ অনুসরণ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ভাসানী স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং একটি কল্যাণকর রাষ্ট্রের চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু তিনি তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে দেখে যেতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ভাসানী দোয়া করেছিলেন এবং মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে তার সঙ্গে কাজ করতে বলেছিলেন।

আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব শামসুজ্জামান দুদু। আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আবদুস সালাম আজাদ, হেলেন জেরিন খান, চিত্রনায়ক হেলাল খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।