নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করল নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন হাউস। গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের লালগালিচায় দুই বাংলার জনপ্রিয় তারকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তার উপস্থিতি অনুষ্ঠানে যোগ করে বিশেষ আবেদন; ছিলেন বাংলাদেশের অভিনেতা মামনুন হাসান ইমনও। বাঙালি কমিউনিটির প্রাণকেন্দ্র ৭২-২৮ ব্রডওয়ের সেকেন্ড ফ্লোরে আয়োজিত এই উদ্বোধনী সন্ধ্যা ছিল রূপ, রুচি আর রঙের এক প্রাণবন্ত সমাবেশ—যেখানে একসঙ্গে মিশেছে ঐতিহ্যের স্বাদ ও শহুরে গ্ল্যামার।

আয়োজনে জানানো হয়, নিউ ইয়র্কের খ্যাতিসম্পন্ন আশা গ্রুপ অব কোম্পানিজ–এর সিস্টার কনসার্ন হিসেবে নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন হাউস নিয়মিতই আনবে প্রতি মাসে নতুন কালেকশন, সঙ্গে থাকবে আকর্ষণীয় অফার ও স্টোর–এক্সপেরিয়েন্সে আধুনিকতার ছোঁয়া। উদ্বোধনী বক্তব্যে আশা গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আকাশ রহমান বলেন, “নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন হাউস শুধু পোশাক বিক্রির প্রতিষ্ঠান নয়; এটি আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিত্বের এক উজ্জ্বল আভাস—যা নিউ ইয়র্কের ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন অধ্যায় যোগ করবে।”

মিলাদ ও দোয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের দোয়া পরিচালনা করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের খতিব-ইমাম মির্জা আবু জাফর বেগ। তিনি দেশ, জাতি ও প্রবাসের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করেন। ধর্মীয় আবহের এই সূচনা উপস্থিত অতিথিদের মন ছুঁয়ে যায়। মিলাদ ও দোয়া শেষে একে একে বক্তব্য রাখেন আগত অতিথিরা। নিউ ইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসে যাত্রা শুরু করা নতুন এই প্রতিষ্ঠানটির মঙ্গল কামনা করেন ।
স্টোরের কিউরেশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়াল হোসেন। তাঁর সৃজনশীল ধারণায় গড়ে ওঠা সংগ্রহে পাওয়া যাবে বাংলাদেশ ও ভারতের একঝাঁক তারকার নিজস্ব ডিজাইন করা পোশাক—যেখানে শাড়ি, কুর্তা, গাউন কিংবা সমকালীন ফিউশন–পিস—সবই সাজানো হয়েছে শহরের বহুজাতিক এথনিক শপিং কালচারের সঙ্গে সাযুজ্যে। ফলে অভিবাসী বাঙালির নস্ট্যালজিয়া ও নিউ ইয়র্কের দ্রুতগতির স্টাইল—দুই ধারাই মিলবে একই ছাদের নিচে।

উদ্বোধনী মঞ্চে অতিথিরা মত দেন, ফ্যাশন শুধুই পোশাক নয়; এটি আত্মপরিচয়, সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। সেই দর্শন থেকেই নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন হাউস স্থানীয় ও প্রবাসী ক্রেতাদের জন্য হয়ে উঠতে চায় বিশ্বমঞ্চে বাংলা নান্দনিকতার উজ্জ্বল প্রতিনিধিত্ব। ব্রডওয়ের ব্যস্ত জনপদে এমন একটি কনসেপ্ট–স্টোরের সূচনাকে অনেকে দেখছেন কমিউনিটির সাংস্কৃতিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক সংযোজন হিসেবে—যেখানে কেনাকাটার পাশাপাশি থাকবে মিলনমেলা, সামাজিকতা আর নতুন স্টাইল–ট্রেন্ডের অনুপ্রেরণা।
গ্র্যান্ড ওপেনিং সন্ধ্যায় তারকাদের সঙ্গে ছবি ও সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় ছিল উৎসবের ছোঁয়া। আয়োজকদের মতে, সামনে শারদীয় দুর্গোৎসব ও উইন্টার–হলিডে লক্ষ্য রেখে আসছে থিম–ভিত্তিক কালেকশন এবং ইন–স্টোর বিশেষ অনুষ্ঠান। দিনশেষে জ্যাকসন হাইটসের এই নতুন ঠিকানা শহরের বাঙালি ফ্যাশন–মানচিত্রে শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়—বরং স্টাইলের নতুন সংজ্ঞা তৈরির এক উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠার ঘোষণা দিল।




