বুধবার

,

১৩ই মে, ২০২৬

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের সব দেশে ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযথ মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হয়েছে। মানবতার পথপ্রদর্শক হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোলে জন্মগ্রহণ করেন; পিতা ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। রিসালতের দায়িত্ব সম্পন্ন করে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনেই ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

‘আইয়ামে জাহেলিয়া’ নামে পরিচিত অজ্ঞতা ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন সেই যুগে মানবসমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনতেই আল্লাহতায়ালা রাসূলুল্লাহ (সা.)–কে শেষ নবী ও রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেন। নবীজির পিতার ইন্তেকালের পর অল্প বয়সে মা–কে হারিয়ে তিনি দাদা আব্দুল মুত্তালিব ও পরে চাচা আবু তালিবের আশ্রয়ে বড় হন। হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকা, ২৫ বছরে খাদিজা (রা.)–এর সঙ্গে বিবাহ এবং ৪০ বছরে নবুয়তপ্রাপ্তি—এসব মাইলফলক তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর সুন্নাহই ইসলামের মৌলিক ভিত্তি।

দিনটি উপলক্ষে সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক–ধর্মীয় সংগঠন দেশে–বিদেশে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে—যার উদ্বোধন হয় শুক্রবার বাদ মাগরিব। ৫–১৯ সেপ্টেম্বর প্রতিদিন জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে দেশবরেণ্য আলেম–ওলামারা বয়ান করবেন। একই প্রাঙ্গণে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে; দেশ–বিদেশের প্রায় ২০০ স্টল এতে অংশ নেবে।

ইফার আগারগাঁও কার্যালয়ে ১৫–১৬ সেপ্টেম্বর স্কুল–কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় ও কওমি–আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কিরাআত, আজান, হামদ–না’ত, রচনা, কবিতা, উপস্থিত বক্তৃতা ও আরবি খুতবা লিখন—এই সাত বিভাগে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হবে। জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ১১ সেপ্টেম্বর ক্বিরাআত মাহফিল, ১৭ সেপ্টেম্বর হামদ–না’ত এবং ১৮ সেপ্টেম্বর বাদ আসর রাসূল (সা.)–এর শানে স্বরচিত কবিতা পাঠের আয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি ইফার বিভাগীয়/জেলা কার্যালয়, ৫৬টি ইসলামিক মিশন ও ৮টি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে ওয়াজ–মাহফিল ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ স্থানীয় কর্মসূচি চলছে।

রাজধানীতে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে জশনে জুলুস বের হয়ে দোয়েল চত্বর–শিক্ষা ভবন–কদম ফোয়ারা ঘুরে শান্তি মহাসমাবেশে মিলিত হয়। চট্টগ্রামে আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের আয়োজনেও বর্ণাঢ্য জুলুস অনুষ্ঠিত হয়। জামালপুর জেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্ম সচিব এ কে এম আফতাব হোসেন প্রামাণিক।

বিদেশে বাংলাদেশ মিশন, দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলো স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির অংশগ্রহণে দিবসটি পালন করে। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিগুলো সম্পন্ন হয় এবং সবার মাঝে নবীজির (সা.) সুন্নাহ ও নৈতিক আদর্শ দৈনন্দিন জীবনে প্রতিষ্ঠার আহ্বান উচ্চারিত হয়।